অনলাইনে ঝুঁকিতে স্কুল শিক্ষার্থী ও তরুণ
ইন্টারনেটে বিদ্বেষ, ট্রল ও গুজবের বিরুদ্ধে ঢাকায় শান্তি সম্মেলন (পিস সামিট) অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধানমন্ডির ইএমকে সেন্টারে ১৬ নভেম্বর আন্তর্জাতিক সহনশীলতার দিবসকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় সম্মেলনের এই ৫ম পর্ব। যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে প্রেনিউর ল্যাব ট্রাস্ট।
ইন্টারনেট ও ভার্চুয়াল দুনিয়ায় বাংলাদেশের সমস্যা এবং অভিযোগ নিয়ে এই উন্মুক্ত আলোচনা অংশ নেন দেশের উন্নয়ন পেশাদার, নীতিনির্ধারক, গবেষক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা।
সম্মেলনে আমেরিকায় নিয়োজিত সাবেক বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ন কবির, ইএমকে সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আসিফ উদ্দিন আহমেদ, ইউএসএআইডির (USAID) অবিরোধ প্রজেক্ট রিসার্চ ডাইরেক্টর ডাঃ কারনা কোহেন; এটুআই এর ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট মানিক মাহমুদ, এবং ইউ এন উইম্যান (UN Women) বাংলাদেশ এর সৈয়দা সামারা মুরতাদা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা জানান, দেশের ৯ কোটির বেশির মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা কোন ধরণের ডিজিটাল স্বাক্ষর জ্ঞান ছাড়াই সংযুক্ত হয়েছেন ইন্টারনেটের মহাসমুদ্রে। সাইবার স্পেস বিভিন্ন চক্রান্ত ও প্রপাগান্ডা ছড়ানোর এখন প্রধান চ্যানেল হয়ে গিয়েছে । স্কুল শিক্ষার্থী ও তরুণরা আছেন মূল ঝুঁকিতে । একজন মানুষ দৈনিক প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা মোবাইল ফোনে ব্যয় করেন। নেতিবাচক কন্টেন্ট মানসিক স্বাস্থ্যে ব্যাপকভাবে ক্ষতি করছে ।
এরপর "ফেক নিউজ প্রোপাগান্ডা এন্ড আইডেনটিফিকেসন" সেশনে পরিচালনা করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের উপস্থাপিকা আয়েশা মাহমুদ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের শিষ্টাচার নিয়ে বক্তব্য রাখেন ইউএনডিপি এর প্রকল্প কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ গোস্বামী।
"বিউটি ইন ডাইভারসিটি" সেশনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক প্রিয়াঙ্কা বোস; লিপিং বাউনডারি প্রতিষ্ঠাতা শাগুফে হোসাইন; অহনিশ ফিল্মস প্রতিষ্ঠাতা হাসান আল বান্নাহ এবং সাইমুম রেজা তালুকদার।
সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন প্রেনিউর ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা আরিফ নিজামী। কন্টেন্ট তৈরি নিয়ে সেশন নেন ইউএনডিপির হেড অফ কমিউনিকেশন আব্দুল কাইউয়ম, ফটোগ্রাফার প্রীত রেজা, নগদের মার্কেটিং হেড মন্সুরুল আজিজ ।
পিস সামিট এর শেষ পর্বে ১৯৫টি মোবাইল মুভি ও ফটোর মাঝে বেছে নেয়া হয় “মোবাইল ফিল্ম এবং ফটোগ্রাফি চ্যালেঞ্জ” এর সেরা ৩টি কন্টেন্ট । শীর্ষ ৩ বিজয়ী মোট ৩০,০০০ টাকা মূল্যের নগদ পুরস্কার জিতে নেন। তরুণ অংশগ্রহণকারীরা প্রতিযোগিতায় সহনশীলতা, বৈচিত্র্য এবং শান্তির বিষয়বস্তুতে ছবি বা মোবাইল ভিডিও তৈরি করে এতে অংশ নেয় ।